সহবাসের সময় ও সামাজিক কুসংস্কার
গর্ভধারণের আগে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা
- সাধারণ পরীক্ষা: রক্তচাপ (Blood Pressure), ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এবং রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা যাচাই করা।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা আগে থেকেই কমিয়ে ফেলা উচিত। কারণ গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপ, একল্যাম্শিয়া (গর্ভকালীন খিঁচুনি বা জটিলতা) এবং গর্ভাবস্থাকালীন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
- মাসিকের অনিয়ম: যাদের মাসিক অনিয়মিত, তাদের ডিম্বাণু গঠনে সমস্যা হতে পারে। তাই শুরুতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে মাসিক নিয়মিত করার চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
- সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ: সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করার সাথে সাথেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক অ্যাসিড (Folic Acid) গ্রহণ শুরু করা উচিত, যা শিশুর জন্মগত ত্রুটি রোধে সাহায্য করে।
জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
মা হওয়ার প্রস্তুতি পর্বে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা প্রয়োজন:
মানসিক চাপ কমানো: গর্ভধারণ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস (Stress - মানসিক চাপ) করা যাবে না। মানসিক চাপ নারীর শরীরে ডিম্বাণু গঠনে ও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।
পরিমিত ব্যায়াম: শারীরিক সুস্থতার জন্য হালকা ব্যায়াম ভালো, তবে অতিরিক্ত বা ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে হবে।
ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা: গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার আগেই ভ্রূণের বয়স ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ হয়ে যায়। তাই পরিকল্পনা শুরুর সময় থেকেই যেকোনো ওষুধ—বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথার ওষুধ—চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবে না।
ক্রনিক রোগের ওষুধ পর্যালোচনা: আগে থেকেই কোনো ক্রনিক (Chronic - দীর্ঘমেয়াদি) রোগের জন্য নিয়মিত ওষুধ খেলে তা গর্ভাবস্থার জন্য নিরাপদ কি না, তা আগেই চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জেনে নিন।
খাদ্যাভ্যাস: প্রসেসড ফুড (Processed Food - প্রক্রিয়াজাত খাবার), কেমিক্যালযুক্ত খাবার ও বাইরের ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় তাজা শাকসবজি ও পর্যাপ্ত আমিষ যুক্ত করুন।
সঠিক বয়স ও কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
সাধারণত ২৫ বছর বয়সকে গর্ভধারণের সবচেয়ে আদর্শ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে অন্তত ৩০ বছরের আগেই প্রথম সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করা ভালো।
যদি কোনো দম্পতি কোনো ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করে টানা ৬ মাস থেকে ১ বছর চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণে সফল না হন, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও প্রি-কনসেপশনাল কাউন্সেলিং (Pre-conceptional Counseling - গর্ভধারণের পূর্ববর্তী পরামর্শ) করানো উচিত। সে ক্ষেত্রে স্বামী এবং স্ত্রী দুজনেরই প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।

.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ