দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্মে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। তাই সবদিক থেকে এই ডিভাইসটি ভালো হওয়া আবশ্যক। অন্যথায় বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাজারে বিভিন্ন ফিচার্সের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল রয়েছে। তাই কোন ফোনটি কিনবেন, সেটা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। চলুন জেনে নিই ফোন কেনার আগে যা জানা দরকার।
স্মার্টফোন কেনার আগে প্রথমেই জানতে হবে স্মার্টফোন কেনার উদ্দেশ্য কী। গেইম খেলার জন্য স্মার্টফোন কিনতে চাইলে প্রসেসর, স্টোরেজ, র্যাম, ডিসপ্লে —এই ৪টি বিষয়ের উপর নজর দিতে হবে।
আবার প্রধান উদ্দেশ্য শুধু ফটোগ্রাফি হলে ক্যামেরা, স্টোরেজসহ সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
অনেকে আবার দীর্ঘ সময় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র ব্যাটারি ব্যাকআপকেই গুরুত্ব দেন। এক্ষেত্রে মোবাইল কেনার আগে প্রসেসর, ব্যাটারি ও সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আবার অনেকে ব্যাটারি ব্যাকআপ, গেইম, ফটোগ্রাফি সবকিছুই মোটামুটি ভাল চান।
প্রসেসর
প্রসেসরকে স্মার্টফোনের মস্তিষ্ক বলা হয়ে থাকে। স্মার্টফোনের সব কমান্ড প্রসেসরের মাধ্যমেই প্রসেসিং হয়। প্রসেসর কেনার সময় পুরাতন মডেলের প্রসেসর না কেনাই ভালো। কিনলেও এক বছরের চেয়ে পুরনো যেন না হয়। কারণ, নতুন প্রসেসর নেটওয়ার্ক স্পীড, গেমিং পারফরম্যান্স, ক্যামেরা পারফরম্যান্স, ব্যাটারি ব্যাকআপসহ সবকিছুর উপরই প্রভাব রাখে। তবে ভালো প্রসেসর বাছাই করতে ৩টি বিষয় দেখতে হবে।
১. কোর সংখ্যা: প্রসেসরের কোর সংখ্যা যত বেশি হয়, স্মার্টফোন তত দ্রুত কাজ করে। প্রসঙ্গত, ডুয়েল কোর মানে ২টি কোর, কোয়াড কোর মানে ৪টি কোর এবং অক্টা কোর মানে ৮টি কোর।
২. ক্লকস্পীড: গেমিং স্মার্টফোনে ক্লকস্পীডের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ক্লকস্পীড যত বেশি হবে গেমিং পারফরম্যান্স তত ভালো হবে।
৩. ন্যানোমিটার প্রযুক্তি: ভালো প্রসেসর ক্ষেত্রে ন্যানোমিটার প্রযুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত প্রসেসরে ন্যানোমিটার প্রযুক্তি যত কম হবে স্মার্টফোন তত দ্রুত হয়। পাশাপাশি ব্যাটারি ব্যাকআপও তত ভাল হয়।
ন্যানোমিটার দিয়ে প্রসেসর এর ভেতরে থাকা ট্রানজিস্টর এর দূরত্ব বোঝায়। এক ট্রানজিস্টর থেকে অন্য একটি ট্রানজিস্টরের দূরত্ব যত কম হবে ডাটা ট্রান্সফার রেটও তত দ্রুত হবে। ফলে শক্তি কম খরচ হবে। যেমন— ১১ ন্যনোমিটার প্রযুক্তির একটি প্রসেসরের চেয়ে ৭ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির প্রসেসর দ্রুত হবে ও ব্যাটারির চার্জও কম খরচ হবে।
র্যাম
স্মার্টফোনে র্যাম বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত ধারণায় র্যাম যত বেশি হবে মোবাইলের পারফরম্যান্সও তত বেশি হবে। কিন্তু তা পুরোপুরি সঠিক নয়। র্যামের সংখ্যার পাশাপাশি র্যামের ধরণও দেখতে হবে।
যদি একটি স্মার্টফোনের র্যাম ৮ জিবি আর র্যামের ধরণ এলপি ডিডিআর৪ (LP-DDR4) হয় তাহলে স্পীড হবে (৩২০০×৮) বা ২৫৬০০ এমবিপিএস (MBPS)। আবার অন্য একটি স্মার্টফোনের ৪ জিবি র্যামের ধরণ যদি এলপি ডিডিআর৫ (LP-DDR5) হয় তাহলে স্পীড হবে (৬৪০০×৪) =২৫৬০০ এমবিপিএস (MBPS)। শুধুমাত্র র্যামের ধরণের কারণে ৮ জিবি এবং ৪ জিবি র্যামের স্পীড সমান হয়ে যায়।
এলপি ডিডিআর৪ র্যামের চেয়ে এলপি ডিডিআর৫ কম শক্তি খরচ করে। ফলে ব্যাটারি ব্যাকআপও বাড়ে। র্যামের ধরণ যত নতুন হয় ব্যাটারি ব্যাকআপ, পারফরম্যান্স ও মাল্টিটাস্কিং তত ভাল হয়।
স্টোরেজ
প্রসেসরের পর স্টোরেজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্টোরেজের ক্ষেত্রেও র্যামের মত ভুল ধারনা রয়েছে। স্টোরেজের পরিমাণের চেয়ে স্টোরেজের ধরণ গুরুত্বপূর্ণ।
ইএমএমসি (EMMC) টাইপের স্টোরেজ অনেক পুরাতন। এই ধরণের টাইপের স্টোরেজে ক্যামেরা পারফরম্যান্স, গেইম পারফরম্যান্স, ব্যাটারি ব্যাকআপ ইউএফএস (UFS) টাইপের স্টোরেজের তুলনায় অনেক খারাপ। তাছাড়া ইউএফএস টাইপের স্টোরেজে অনেক ফিচার সাপোর্ট করে।
স্টোরেজ টাইপের উপর ২টি বিষয় নির্ভর করে — ক্যামেরা পারফরম্যান্স ও গেইম পারফরম্যান্স।
স্মার্টফোনে স্বাচ্ছন্দ্যে ভিডিও দেখতে ভালো ডিসপ্লের বিকল্প নেই। ভালো ডিসপ্লে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ডিসপ্লে নিটস, টাচ স্যাম্পলিং রেট, ডিসপ্লে টাইপ ও ডিসপ্লে রেজুলেশন।
ডিসপ্লে নিটস: স্মার্টফোনে ডিসপ্লের ব্রাইটনেস কত নিটস তা দেখতে হবে। যত বেশি নিটস, তত বেশি ব্রাইটনেস। যাদের বেশি ব্রাইটনেস প্রয়োজন, বিশেষত যারা দিনে বাইরে কাজ করেন তাদের জন্য ডিসপ্লের নিটস খেয়াল করা প্রয়োজন।
টাচ স্যাম্পলিং রেট: টাচ স্যাম্পলিং রেট খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। টাচ স্যাম্পলিং রেট যত বেশি হবে, স্মার্টফোন ব্যবহার করতে তত বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব


0 মন্তব্যসমূহ