Breaking News
লোড হচ্ছে...

Advertisement

ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
লোডিং...

নকল টাকা উদ্ধারের নাটক, পৌনে ৪ কোটি আসল টাকা খেয়ে ফেলল পুলিশ

নকল টাকা উদ্ধারের নাটক, পৌনে ৪ কোটি আসল টাকা খেয়ে ফেলল পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

নকল টাকার নাটক সাজিয়ে পৌনে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত ডিবির টিম!

রাজধানীর বুকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে উঠেছে এক রোমহর্ষক ও অবিশ্বাস্য দুর্নীতির অভিযোগ। জালিয়াতি দমনের নামে অভিযানে গিয়ে নিজেরাই লিপ্ত হয়েছেন এক বিশাল জালিয়াতিতে। রাজধানীর ওয়ারীতে কথিত ‘জাল টাকা’ উদ্ধারের আড়ালে প্রায় পৌনে চার কোটি আসল টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযানের সময় রুমের লাইট বন্ধ করে বিপুল পরিমাণ আসল টাকা সরিয়ে ফেলে, সেখানে আগে থেকে আনা জাল টাকা রেখে সাজানো হয়েছিল উদ্ধারের নাটক।

অভিযানের নেপথ্যে ও আত্মসাতের পরিকল্পনা

ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ৮ নভেম্বর রাজধানীর ওয়ারীর জুড়িয়াটুলি এলাকার একটি বহুতল ভবনে। পুলিশ ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ৭ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার এক পুলিশ সোর্স দিদারুল আলমের মাধ্যমে তথ্য আসে যে, ওয়ারীর একটি বাসায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা মজুত রয়েছে। এই তথ্য পাওয়ার পর ডিবি তেজগাঁও বিভাগের তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার তারেক সেকান্দারের (বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, রাঙামাটি) নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই বিপুল অর্থের তথ্য পাওয়ার পরেই ডিবির ওই দলের কয়েকজন সদস্য সেটি আত্মসাতের ছক কষেন।

যেভাবে সাজানো হলো জাল টাকার নাটক

সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডিবির দলটি ওয়ারীর একটি বহুতল ভবনের সপ্তম তলার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। সেখানে অবস্থানরত দুই যুবককে আটক করে তারা তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশির এক পর্যায়ে ঘরের স্টিল ক্যাবিনেটের সাতটি ড্রয়ারে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের অসংখ্য বান্ডিল পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সোর্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত টাকাগুলো সবই ছিল আসল।

অভিযোগ অনুযায়ী, ড্রয়ার ভর্তি সেই বিপুল অর্থ দেখার পর কৌশলে রুমের লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্ধকারে পুলিশেরই কয়েকজন সদস্য আসল টাকার বান্ডিলগুলো ব্যাগে ভরে দ্রুত নিচে পাঠিয়ে দেন। এরপর সেখানে আগে থেকে তৈরি করে রাখা ৫-৬ লাখ টাকার জাল নোট রেখে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে ডেকে এনে ড্রয়ার থেকে সেই ‘জাল টাকা’ উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়।

মামলার কাগজপত্রে তথ্যের লুকোচুরি

অভিযান শেষে ডিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, তারা ৫-৬ লাখ টাকার জাল নোট এবং মাত্র ২০ লাখ নগদ আসল টাকা উদ্ধার করেছেন। এই মর্মে একটি মামলাও দায়ের করা হয়। অথচ পুনঃতদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ বলছে অন্য কথা। ঘটনার সময় বাসায় প্রায় পৌনে চার কোটি আসল টাকা ছিল বলে জোরালো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, যার কোনো হদিস ডিবির জব্দ তালিকায় নেই। সোর্স দিদারুলের জবানবন্দিতেও টাকা সরানোর বিস্তারিত বর্ণনা উঠে এসেছে।

প্রশাসনের অবস্থান ও তদন্ত

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এমন কর্মকাণ্ডে পুলিশ প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন উঠেছে। ডিবির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নেতৃত্বে এমন পরিকল্পিত অর্থ আত্মসাৎ ভাবিয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভাগীয় তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

শেষ কথা: রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জায়গাটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। ওয়ারীর এই ঘটনাটি কেবল একটি অর্থ আত্মসাতের মামলা নয়, এটি পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। অন্যথায়, অপরাধ দমনের আড়ালে এমন ‘নাটক’ চলতেই থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ