Breaking News
লোড হচ্ছে...

Advertisement

ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
লোডিং...

জুমাকে হাদির খুনির সঙ্গে দেখিয়ে এআই ছবি প্রচার

এআই নির্মিত ছবি।

 

জুমার সঙ্গে হাদির খুনি: এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ছবি প্রচারের নেপথ্যে কী?

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির জয়জয়কার যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করছে, তেমনি এর নেতিবাচক ব্যবহার সৃষ্টি করছে ভয়াবহ সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমার ছবি নিয়ে এমনই এক নোংরা চক্রান্তের খবর সামনে এসেছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে জুমার একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলোচিত এই ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এআই নির্মিত।

ঘটনার বিবরণ ও সামাজিক মাধ্যমের গুজব

সোমবার (৯ মার্চ) ‘দ্য ডিসেন্ট’ নামে একটি ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দিগন্ত টিভি’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়। সেই ফটোকার্ডে দেখা যায়, হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা পাশাপাশি বসে আছেন এবং তারা বেশ হাস্যোজ্জ্বল। ছবির ক্যাপশনে দাবি করা হয়, খুনি মাসুদের সঙ্গে জুমার ঘনিষ্ঠ ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেক নেটিজেন যাচাই না করেই ডাকসু নেত্রীর চারিত্রিক ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। বিশেষ করে হাদি হত্যাকাণ্ডের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের সঙ্গে একজন ছাত্রনেত্রীকে জড়িয়ে এমন প্রচারণা উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ফ্যাক্ট-চেক: যেভাবে বেরিয়ে এলো সত্য

দ্য ডিসেন্ট তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ভাইরাল হওয়া ছবিটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং রিভার্স ইমেজ সার্চ করার পর দেখা গেছে এটি একটি এআই-জেনারেটেড ছবি। অর্থাৎ, প্রযুক্তির মাধ্যমে ফাতেমা তাসনিম জুমার ছবিকে খুনি ফয়সাল করিম মাসুদের ছবির পাশে কৃত্রিমভাবে বসানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বার্তা বাজার’-এ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি মূল ছবি পাওয়া গেছে। সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে হত্যা মামলার অন্য এক আসামি আলমগীর হোসেনকে দেখা গিয়েছিল। সেই মূল ছবিটিকে কারিগরি কারসাজির মাধ্যমে পরিবর্তন করে আলমগীর হোসেনের জায়গায় জুমার প্রতিচ্ছবি বসানো হয়েছে।

পেজটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন

বিভ্রান্তিকর এই তথ্যটি প্রচারকারী ‘দিগন্ত টিভি’ নামক ফেসবুক পেজটি নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি দিগন্ত টেলিভিশনের অফিশিয়াল পেজ নয়। মূলত বড় কোনো মিডিয়া হাউসের নাম ও লোগো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যেই এ ধরণের ভুয়া পেজগুলো পরিচালিত হয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে জুমার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই ভুয়া ফটোকার্ডটি প্রচার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সচেতনতা

এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যেকোনো ছবি বা তথ্য অন্ধভাবে বিশ্বাস করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন নিখুঁতভাবে ছবি বা ভিডিও পরিবর্তন করা সম্ভব (Deepfake), যা দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে কাউকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা যায়।

শেষ কথা: ফাতেমা তাসনিম জুমার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার মূলত আমাদের বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তার দুর্বলতাকেই তুলে ধরে। হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া যখন চলমান, তখন এ ধরণের গুজব ছড়ানো মামলার তদন্তকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই আমাদের উচিত যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তা যাচাই করে নেওয়া। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি রাখে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ