![]() |
| সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা |
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া: নিজ কার্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নারী শিক্ষকের মৃত্যু
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক নজিরবিহীন এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজ কার্যালয়ে এক কর্মচারীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। একজন মেধাবী শিক্ষকের এমন অকাল ও মর্মান্তিক প্রয়াণে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বর্ণনা
বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন আসমা সাদিয়া রুনা। এ সময় ফজলুর রহমান নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী হুট করে তার কক্ষে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, বেতন সংক্রান্ত জটিলতা এবং অন্য বিভাগে বদলি হওয়া নিয়ে ওই কর্মচারীর মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ছিল।
কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে তার সাথে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সহকারী অধ্যাপক রুনার গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। আসমা সাদিয়ার আর্তচিৎকার শুনে পাশের কক্ষের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এদিকে শিক্ষককে আঘাত করার পর অভিযুক্ত ফজলুর রহমান নিজেও নিজের গলায় আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।
উদ্ধার ও চিকিৎসা প্রচেষ্টা
ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রুনার শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ফজলুর রহমান চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পুলিশি নজরদারিতে আছেন।
ক্যাম্পাস জুড়ে ক্ষোভ ও বিচার দাবি
আসমা সাদিয়া রুনার মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
শেষ কথা: শিক্ষাঙ্গনের মতো পবিত্র জায়গায় একজন শিক্ষকের এমন মৃত্যু সমাজের জন্য এক অশনিসংকেত। বেতন বা ব্যক্তিগত অসন্তোষের জেরে একজন শিক্ষককে এভাবে প্রাণ হারাতে হবে—তা কল্পনা করাও কঠিন। আসমা সাদিয়া রুনার এই প্রস্থান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি। প্রশাসনের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।

0 মন্তব্যসমূহ