Breaking News
লোড হচ্ছে...

Advertisement

ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
লোডিং...

মানুষের মাংস খাওয়ার অপবাদ রয়েছে এই জাতির! কেন খান? জানা গেল এতদিনে


 

মানুষের মাংস খাওয়ার অপবাদ রয়েছে এই জাতির! জানুন কোরোয়াই জনজাতির রহস্যময় জীবনের গল্প

পৃথিবীটা রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের এই যুগেও এমন কিছু জনজাতি বা সম্প্রদায় রয়েছে, যাদের জীবনধারা আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার গভীর জঙ্গলে বসবাসকারী ‘কোরোয়াই’ (Korowai) জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই জাতির বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে একটি ভয়ঙ্কর অপবাদ রয়েছে—তা হলো ‘ক্যানিবালিজম’ বা নরমাংস ভক্ষণ। কিন্তু কেন তারা মানুষের মাংস খেতেন? সেই রহস্যের জট এবার খুলেছে এক ভারতীয় ইউটিউবারের মাধ্যমে।

গভীর জঙ্গলের বিচ্ছিন্ন এক পৃথিবী

ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশের গহীন অরণ্যে কোরোয়াইদের বসবাস। তারা আধুনিক সমাজ থেকে এতটাই বিচ্ছিন্ন যে, বাইরের জগতের কোনো ছোঁয়া সেখানে পৌঁছায়নি। সম্প্রতি ভারতীয় ইউটিউবার ধীরজ মিনা এই রহস্যময় জাতির সন্ধানে সেখানে পৌঁছেছিলেন। তার সেই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ বিমান যাত্রা, এরপর টানা ১০ ঘণ্টা নৌকা ভ্রমণ এবং সবশেষে গহীন জঙ্গলের চার ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি এই জাতির দেখা পান। এই মানুষগুলো উঁচু গাছের ওপর বাড়ি বানিয়ে থাকে, যা তাদের শিকারি বন্যপ্রাণী ও শত্রু গোষ্ঠীর হাত থেকে রক্ষা করে।

কেন তারা মানুষের মাংস খেতেন?

ইউটিউবার ধীরজ মিনা সরাসরি এই কোরোয়াইদের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্ন করেছিলেন—তারা কি সত্যিই মানুষের মাংস খান? এর জবাবে বর্তমান প্রজন্মের এক সদস্য জানান, নরমাংস ভক্ষণের এই প্রথাটি মূলত তাদের পূর্বপুরুষ বা বাবাদের আমলে প্রচলিত ছিল। তবে তারা কোনো সাধারণ মানুষের মাংস খেতেন না। এর পেছনে ছিল নির্দিষ্ট কিছু কারণ ও গোত্রীয় নিয়ম:

১. প্রতিশোধ ও শত্রু দমন: কোরোয়াইরা মূলত শিকারি জাতি। যদি কোনো শত্রু গোষ্ঠী তাদের ওপর হামলা করত বা তাদের পরিবারের কোনো নারীকে অপহরণ করত, তবে তারা সেই শত্রুকে হত্যা করে তার মাংস ভক্ষণ করত। এটি ছিল তাদের কাছে এক প্রকার বিজয়ের প্রতীক এবং প্রতিশোধের চরম বহিঃপ্রকাশ। 


২. খাকুয়া বা শয়তানের প্রভাব: কোরোয়াইদের বিশ্বাস অনুযায়ী, কেউ যদি অদ্ভুতভাবে মারা যেত বা অসুস্থ হতো, তারা মনে করত তার ওপর ‘খাকুয়া’ বা অশুভ শক্তির প্রভাব পড়েছে। সেই খাকুয়াকে মারতেই তারা মানুষের মাংস খাওয়ার প্রথা পালন করত।

মানুষের মাংসের স্বাদ কেমন?

এই অদ্ভূত এবং ভয়ংকর অভিজ্ঞতার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ওই কোরোয়াই সদস্য মাংসের স্বাদ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। দীর্ঘ অনেক বছর আগে মানুষের মাংস খাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, মানুষের মাংস দেখতে অনেকটা গরুর মাংসের মতো লালচে হলেও এর স্বাদ অনেকটা শূকরের মাংসের মতো। তবে বর্তমান প্রজন্মের দাবি, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে তারা এই প্রথা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এখন তারা মূলত জঙ্গল থেকে শিকার করা পশুপাখি এবং প্রাকৃতিক ফলমূল খেয়েই জীবনধারণ করেন।

বর্তমান অবস্থা ও বিলুপ্তপ্রায় প্রথা

ইউটিউবার ধীরজ মিনার শেয়ার করা ভিডিও এবং রিল বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সেখানে দেখা যায়, কোরোয়াইরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নমনীয়। যদিও তারা এখনো পোশাক-আশাক বা জীবনযাত্রায় আদিম ধারা বজায় রেখেছেন, কিন্তু নরমাংস ভক্ষণের মতো ভয়াবহ প্রথা এখন প্রায় বিলুপ্ত। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রচারণার ফলে এই বিচ্ছিন্ন জাতিটি এখন ধীরে ধীরে আধুনিক সমাজের সাথে পরিচিত হতে শুরু করেছে।

উপসংহার: মানুষের মাংস খাওয়ার এই প্রথা সভ্য সমাজের কাছে ভয়াবহ মনে হলেও, কোরোয়াইদের কাছে এটি ছিল তাদের অস্তিত্ব রক্ষার এক কঠোর প্রাচীন নিয়ম। তবে এখন তারা আর নরভুক নয়, বরং প্রকৃতির সাথে লড়াই করে টিকে থাকা একটি পরিশ্রমী জাতি। রহস্য আর রোমাঞ্চে ঘেরা এই মানুষদের জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই পৃথিবীতে এখনো অনেক কিছু জানার বাকি রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ