ইবিতে ইসকন নিষিদ্ধ ও আইনজীবী সাইফুল হত্যার বিচারের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে উগ্রবাদ বিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজপথ। চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ এবং উগ্রবাদী সংগঠন ‘ইসকন’ নিষিদ্ধের দাবিতে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে শিবিরের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
বিক্ষোভ মিছিল ও ছাত্র সমাবেশ
বুধবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জিয়া মোড়’ এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং প্রধান ফটক হয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক সংলগ্ন শেখপাড়া বাজার প্রদক্ষিণ করে। এরপর পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এসে এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে মিলিত হয়। জাতীয় সংহতি সপ্তাহ উপলক্ষ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সব ছাত্রসংগঠনের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মিছিলে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ‘ইসকনের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘উগ্রবাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, সাইফুল হত্যার বিচার চাই’—এমন সব উত্তাল স্লোগান শোনা যায়।
ছাত্রনেতাদের বক্তব্য ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে ঐক্য
সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি সমন্বয়ক এসএম সুইট তার বক্তব্যে বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত এদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চক্রান্ত করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তারা ইসকনকে লেলিয়ে দিয়েছে। আমরা এ দেশে সকল ধর্ম ও মতের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে থাকব, কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেব না।"
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এইচএম আবু মুসা বলেন, "ইসকন কোনো ধর্মীয় সংগঠন নয়, এটি ভারতের মদদপুষ্ট একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তারা প্রমাণ করেছে তারা এ দেশের শত্রু। অতিদ্রুত ইসকনকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং সাইফুলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংহতি
সমাবেশে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি ঈসমাইল হোসেন রাহাত এবং জমিয়তে তলাবায়ে আরাবিয়ার সেক্রেটারি সাজ্জাতুল্লাহ শেখও বক্তব্য দেন। বক্তারা একযোগে দাবি জানান যে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হলে সকল দেশপ্রেমিক ছাত্র জনতাকে এক থাকতে হবে। উল্লেখ্য যে, এর আগে মঙ্গলবার রাতেও ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসকন বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিল।
উপসংহার: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে একটি বার্তা স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে কোনো ধরণের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড ছাত্র সমাজ সহ্য করবে না। আইনজীবী সাইফুল হত্যার বিচার এবং ইসকনের মতো বিতর্কিত সংগঠন নিষিদ্ধের দাবি এখন ইবি ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, যা দেশের অখণ্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
0 মন্তব্যসমূহ