Breaking News
লোড হচ্ছে...

Advertisement

ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
লোডিং...

প্রতিদিন প্রচুর পত্রিকা ছাপা হয়। জেনে নিন অবিক্রিত পত্রিকাগুলো কী করা হয়?


প্রতিদিনের অবিক্রিত পত্রিকাগুলো কোথায় যায়? জানুন পুরনো সংবাদপত্রের অজানা গন্তব্য

আধুনিক ডিজিটাল যুগের ভিড়েও ছাপানো সংবাদপত্রের কদর এখনো ফুরিয়ে যায়নি। প্রতিদিন ভোরে হাজার হাজার টন নিউজপ্রিন্ট কাগজে ছাপা হয় তাজা খবর। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই পৌঁছে যায় এই সংবাদপত্র। কিন্তু আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জেগেছে, প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ পত্রিকা ছাপা হয়, তার সব কি বিক্রি হয়? আর যেগুলো অবিক্রিত থেকে যায়, সেগুলোর শেষ পরিণতিই বা কী হয়? অনেকেই মনে করেন এগুলো হয়তো বিনামূল্যে বিলিয়ে দেওয়া হয় অথবা ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত সত্যটি বেশ পরিকল্পিত এবং ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন।

সংবাদপত্র সরবরাহের চেইন ও ফেরত প্রক্রিয়া

একটি পত্রিকা ছাপাখানা থেকে বের হওয়ার পর তা এজেন্ট বা ডিস্ট্রিবিউটরদের মাধ্যমে হকারদের কাছে পৌঁছায়। সারাদিন বিক্রির পর যে কপিগুলো অবিক্রিত থেকে যায়, সেগুলো হকাররা স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে ফেরত দেন। ডিস্ট্রিবিউটর আবার সেই কপিগুলো সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র প্রকাশনা অফিসে পাঠিয়ে দেন। সংবাদপত্রের ভাষায় একে বলা হয় 'রিটার্ন কপি'। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয় যাতে কোনো একটি কপিও নষ্ট না হয়।

কেন অবিক্রিত পত্রিকা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় না?

অনেকের মনে হতে পারে, বাসি পত্রিকা তো কারো কাজে লাগবে না, তাহলে সেগুলো গরিবদের মাঝে বা কোথাও বিনামূল্যে বিলিয়ে দেওয়া হয় না কেন? সংবাদপত্র প্রকাশনা কর্তৃপক্ষের মতে, এটি একটি ব্র্যান্ড ভ্যালু বা মানের বিষয়। যদি নিয়মিত অবিক্রিত পত্রিকা বিনামূল্যে দেওয়া শুরু হয়, তবে মানুষ তা কিনে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। এছাড়া এতে সংবাদপত্রের বাণিজ্যিক মান ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয় থাকে। তাই কোনো নামী প্রকাশনা সংস্থাই তাদের পত্রিকা বিনামূল্যে বিতরণ বা রাস্তায় ফেলে দেয় না।

রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহার: সাশ্রয়ের জাদুকরী উপায়

অবিক্রিত পত্রিকাগুলোর সবচেয়ে বড় গন্তব্য হলো কাগজ তৈরির কারখানা বা পেপার মিল। প্রকাশনা কর্তৃপক্ষ এই জমা হওয়া পুরনো সংবাদপত্রগুলো বড় বড় কারখানায় পাঠিয়ে দেয়। সেখানে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই কাগজগুলোকে গলিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয় এবং পুনরায় কাগজ উৎপাদনের উপযোগী করে তোলা হয়। একেই বলা হয় 'রিসাইক্লিং'।

এই রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ার ফলে প্রকাশনা সংস্থাগুলোর বেশ কিছু সুবিধা হয়:

 ১. কাঁচামালের খরচ হ্রাস: নতুন কাগজ তৈরির জন্য যে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল বা মণ্ড প্রয়োজন হয়, পুরনো কাগজ ব্যবহারের ফলে তার খরচ অনেকটা কমে আসে। 

২. পরিবেশ রক্ষা: কাগজ তৈরিতে প্রচুর গাছ কাটার প্রয়োজন হয়। অবিক্রিত কাগজ রিসাইকেল করার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং বন উজাড় রোধ করা সম্ভব হয়। 

৩. আর্থিক সাশ্রয়: কাঁচামালের সাশ্রয় মানেই হলো উৎপাদন খরচ কমে আসা, যা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ধরনের আর্থিক লাভ নিশ্চিত করে।

বিকল্প ব্যবহার: ঠোঙা ও প্যাকিং সামগ্রী

ফ্যাক্টরিতে পাঠানোর পাশাপাশি অবিক্রিত সংবাদপত্রের একটি বড় অংশ খুচরা বাজারেও বিক্রি হয়। বিশেষ করে মুদির দোকান, ওষুধের দোকান বা রাস্তার ধারের খাবার দোকানে এই কাগজগুলো প্যাকেট বা ঠোঙা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ভঙ্গুর সামগ্রী যেমন কাঁচের জিনিস বা ইলেকট্রনিক্স পণ্য প্যাকিং করার ক্ষেত্রেও পুরনো সংবাদপত্রের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে বড় বড় প্রকাশনা সংস্থাগুলো সরাসরি রিসাইক্লিং প্ল্যান্টের সাথেই চুক্তিবদ্ধ থাকে।

শেষ কথা: সংবাদপত্র কেবল খবর পরিবেশনের মাধ্যম নয়, এর বাণিজ্যিক চক্রটিও বেশ বড়। প্রতিদিনের অবিক্রিত পত্রিকাগুলো কোনোভাবেই অপচয় হয় না। বরং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এগুলোকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়, যা একদিকে যেমন ব্যয় কমায়, অন্যদিকে পরিবেশের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাগজের এই পুনর্ব্যবহারই হচ্ছে আধুনিক বিশ্বের টেকসই অর্থনীতির অন্যতম সেরা উদাহরণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ