Breaking News
লোড হচ্ছে...

Advertisement

ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
লোডিং...

থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা না নেওয়ায় গৃহবধূর বিষপান


 

পুলিশ মামলা না নেওয়ায় থানায় বিষপান: গাইবান্ধায় ধর্ষণচেষ্টার শিকার গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় এক গৃহবধূর ওপর সংঘবদ্ধ ধর্ষণচেষ্টা এবং পরবর্তীতে থানায় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানোর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের অসহযোগিতা এবং অপমানে ক্ষুব্ধ হয়ে লজ্জায় ও অভিমানে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন ওই গৃহবধূ। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন ভুক্তভোগী নুরুন নাহার বেগম।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও কুপ্রস্তাব

সংবাদ সম্মেলনে নুরুন নাহার জানান, তিনি স্থানীয় এএইচএম জিয়াউর রহমান খান নামে এক ব্যক্তির বাড়িঘর ও জমিজমা দেখাশোনা করতেন। জমিজমা ও মাটি কাটা নিয়ে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে একই গ্রামের কবির খান পলাশ, স্বচ্ছ মিয়া, ইমতিয়াজ খান রওনক ও আব্দুস সাত্তারদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। মাটি চুরির একটি মামলায় নুরুন নাহার সাক্ষী হিসেবে নাম থাকায় প্রতিপক্ষ তাকে দমনের পরিকল্পনা করে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জিয়াউর রহমানকে ফাঁসাতে তাকে দিয়ে একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করানোর চেষ্টা করেছিল আসামিরা। এর বিনিময়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাকে ৫০ হাজার টাকার লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়। নুরুন নাহার ও তার শাশুড়ি এই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

১৭ ফেব্রুয়ারির বর্বরতা ও ৯৯৯-এর মাধ্যমে উদ্ধার

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে নুরুন নাহারের ওপর হামলা চালায়। তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় এবং ব্যর্থ হয়ে তারা তাকে বেদম মারধর করে একটি ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখে। নুরুন নাহারের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে কবির খান পলাশ ও স্বচ্ছ মিয়াসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ও বিষপান

থানায় উদ্ধার হওয়ার পর নুরুন নাহারের জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে খোদ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন তার অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। ভুক্তভোগী নারী আরও অভিযোগ করেন যে, ওসি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন— "তুমি তো সাপের লেজে পা দিয়েছো। তোমার নিরাপত্তা কে দেবে? এর চেয়ে মীমাংসা করে নাও।"

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে বিচার পাওয়ার পরিবর্তে এমন বিদ্রূপ ও অবহেলার শিকার হয়ে নুরুন নাহার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলন শেষ করার কিছু সময় পরেই তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের নীরবতা

একজন অসহায় নারী যখন নির্যাতনের শিকার হয়ে থানায় বিচার পান না, উল্টো পুলিশের পক্ষ থেকে মীমাংসার চাপ দেওয়া হয়— তখন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেয়। গাইবান্ধার এই ঘটনাটি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত এবং নুরুন নাহারের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার নিশ্চিত করা জরুরি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ